ইসলামিক দর্শন
Thursday, March 13, 2025
আয়াতুল কুরসির আরবি, বাংলা উচ্চারণ , অর্থ ও ফজিলত
আয়াতুল কুরসির ফজিলত
✓ দিনের যে সময় একবার আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে ঠিক তার পরের দিন ঐ সময় পর্যন্ত একজন ফেরেশতা তার জন্য সওয়াব লিখতে থাকেন, আর একজন ফেরেশতা তার জন্য গুনাহ কাটতে থাকেন।
✓ প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতের ফায়সালা নিশ্চিত হয়ে যায়।
✓ রাতে ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে সাড়া রাত আল্লাহ জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
আয়াতুল কুরসি
সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত। এটি কোরআন শরিফের প্রসিদ্ধ আয়াত। পুরো আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদ, মর্যাদা ও গুণের বর্ণনা থাকার কারণে আল্লাহ তাআলা এ আয়াতের মধ্যে অনেক ফজিলত রেখেছেন। এটি পাঠ করলে অসংখ্য পুণ্য লাভ হয়।হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়েন, তঁার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না। হজরত আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা.) রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? রাসুল (সা.) বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসি।
আয়াতুল কুরসি আরবি :
اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-
আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ :
আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান জাল্লাজি ইয়াশফা’উ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহিতুনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহি ইল্লা বিমা- শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যূল আজিম।
আয়াতুল কুরসির অর্থ :
আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তারই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁকে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান।
Monday, September 23, 2024
নামাজ অর্থসহ বুঝে পড়লে নামাজে মনোযোগ বাড়ে নামাজে যা বলা হয়, তার অর্থ বুঝলে অন্য চিন্তা আসে না।
নামাজ অর্থসহ বুঝে পড়লে নামাজে মনোযোগ বাড়ে
নামাজে যা বলা হয়, তার অর্থ বুঝলে অন্য চিন্তা আসে না। নামাজে আমরা যা বলি, তার অর্থ যদি জানা থাকে, তাহলে নামাজে অন্য চিন্তা মাথায় আসবে না। নামাজে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাকবিরে তাহরিমার সময় দৃষ্টি সেজদার জায়গায় রাখতে হবে। দাঁড়ানো অবস্থায়ও দৃষ্টি সেজদার জায়গায় রাখতে হবে। এরপর রুকু অবস্থায় দৃষ্টি পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির দিকে; পুনরায় দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার জায়গায়; সিজদা অবস্থায় দৃষ্টি নাকের আগায়; বসা অবস্থায় দৃষ্টি নাভিতে রাখতে হবে। সালাম দেওয়ার সময় দৃষ্টি কাঁধে নিবদ্ধ থাকবে। এভাবে নামাজ আদায় করলে মনোনিয়ন্ত্রণ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। নামাজের প্রকৃত উদ্দেশ্যও সফল হবে। নামাজে দাঁড়িয়েই প্রথমে আমরা বলি ‘আল্লাহু আকবার’—অর্থ আল্লাহ মহান! তারপর সানা পড়ি: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি পাক-পবিত্র, তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা, তোমার নাম বরকতময়, তোমার গৌরব অতি উচ্চ, তুমি ছাড়া অন্য কেহ উপাস্য নাই।’ তারপর আমরা শয়তানের প্রতারণা থেকে আশ্রয় চাই এবং বলি, ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম।’ অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহর পবিত্র নাম দিয়ে তাঁর দয়া–করুণার গুণ দিয়ে নামাজ এগিয়ে নিয়ে যাই।
বলি, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।’ অর্থ: ‘পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।’ এরপর আমরা সুরা ফাতিহা দিয়ে নামাজ শুরু করি। সুরা ফাতিহায় আমরা যখন বলি, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন (সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের মালিক আল্লাহর জন্যই)।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হামিদা নি, আবদি (আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল)।’ অতঃপর আমরা যখন বলি—‘আর রাহমানির রাহিম (তিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু)’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আছনা আলাইয়া আবদি (আমার বান্দা আমার বিশেষ প্রশংসা করল)।’ এরপর যখন আমরা বলি, ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দিন (তিনি বিচারদিনের মালিক)।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মাজ্জাদানি আবদি (আমার বান্দা আমাকে সম্মানিত করল)।’ এরপর আমরা যখন বলি, ‘ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়িন (শুধু আপনারই ইবাদত করি আর শুধু আপনার কাছেই সাহায্য চাই)।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হাজা বাইনি ওয়া বাইনা আবদি (এই ফয়সালাই হলো আমার ও আমার বান্দার মধ্যে—বান্দা আমার ইবাদত ও আনুগত্য করবে, আমি তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করব)।’ আমরা যখন বলি, ‘ইহদিনাছ ছিরাতল মুস্তাকিম, ছিরাতল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম, গয়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লিন! (আমাদের সঠিক পথ দেখান, তাদের পথ যাদের আপনি নিয়ামত দিয়েছেন; তাদের পথ নয় যারা পথভ্রষ্ট; আর না যারা অভিশপ্ত)।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘লিআবদি মা ছাআল (আমার বান্দা যা চায়, তার জন্য তা-ই)।’ (সহিহ মুসলিম, ৩৯৫)
এরপর আমরা অন্য একটি সুরা মেলাই। আমরা রুকুতে আল্লাহর প্রশংসা করি এবং ক্ষমা চাই। বলি: সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম। অর্থ: ‘আমার মহান রবের পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি।’ রুকু থেকে উঠে বলি, ‘সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা।’ অর্থ: আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন, যে তঁার প্রশংসা করে। তারপরই আমরা আবার আল্লাহর প্রশংসা করে বলি, ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’, অর্থ: হে আল্লাহ! যাবতীয় প্রশংসা কেবল তোমারই। তারপর আমরা সিজদায় গিয়ে বলি: সুবহানা রাব্বিয়াল আলা, অর্থ: ‘আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি। এভাবে নামাজ শেষে, মধ্য (দুই রাকাত, চার রাকাত ভিত্তিতে) বৈঠক আর শেষ বৈঠকে তাশাহুদে, আল্লাহর প্রশংসা করি।’ তাশাহুদে যা পড়ি তার অর্থ: ‘সকল তাজিম ও সম্মান আল্লাহর জন্য, সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভালো কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপরে শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল।’
দরুদে যা পড়ি তার অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।’ দোয়া মাসুরায় যা পড়ি তার অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আমার ওপর অত্যধিক জুলুম করেছি, গুনাহ করেছি এবং তুমি ব্যতীত পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। ক্ষমা একমাত্র তোমার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আমার প্রতি রহম কর। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল দয়ালু।’ দুই কাঁধে সালাম দিয়ে আমরা নামাজ শেষ করি।
Saturday, May 6, 2023
নামাজে সুরা পড়ার ক্ষেত্রে মৌলিক কয়েকটি কথা স্মরণ রাখা উচিত। প্রথম রাকাতে ভুলে সুরা নাস পড়লে দ্বিতীয় রাকাতে কী পড়বেন?
নামাজে সুরা পড়ার ক্ষেত্রে মৌলিক কয়েকটি কথা স্মরণ রাখা উচিত।
প্রথম রাকাতে ভুলে সুরা নাস পড়লে দ্বিতীয় রাকাতে কী পড়বেন?
নামাজে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। সুরাও এলোমেলো হতে পারে। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ইসলামে এর সমাধান রয়েছে। নামাজে সুরা পড়ার ক্ষেত্রে মৌলিক কয়েকটি কথা স্মরণ রাখা উচিত। ১) যেন কমপক্ষে তিন আয়াত পরিমাণ তেলাওয়াত করা হয়। তিন আয়াতের সীমা হলো- কমপক্ষে ৩০ হরফ। ২) এক সুরা পড়ার পর মাঝখানে এক সুরা বাদ দিয়ে পরের সুরা পড়া মাকরুহ। তবে দুই সুরা বাদ দিয়ে পড়লে কোনো সমস্যা নেই। ৩) প্রথম রাকাতে যে সুরা পড়বে, পরের রাকাতে পরের কোনো সুরা পড়বে, আগের কোনো সুরা পড়া মাকরুহ। এতে কোরআনের তারতিব পাল্টে যায়। তবে ভুলে এমনটি করলে সমস্যা নেই।
৪) বড় সুরা মাঝখান থেকে কিছু অংশ পড়া, আর পরের রাকাতে আরেক সুরার মাঝখান থেকে পড়াও অনুত্তম। ৫) প্রথম রাকাআতে বড় সুরা পড়লে তার পরের রাকাআতে তুলনামূলক ছোট সুরা পড়া উত্তম। তবে এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেও সালাত শুদ্ধ হবে। কেননা, কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ ‘তোমার কোরআনের যেখান থেকে সুবিধা হয় পড়।’ (সুরা মুজাম্মিল: ২০)
মূলকথা হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে উপরোক্ত ভুলগুলো করা মাকরুহ। অনিচ্ছাকৃতভাবে হলে সমস্যা নেই। সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত প্রথম রাকাতে ভুলে সুরা নাস পড়লেও সমস্যা নেই বা গুনাহ নেই। যেহেতু ভুলে হয়েছে। এমন ভুল হলে করণীয় হলো- পরবর্তী রাকাতগুলোতেও সুরা নাসই পড়বে। সুরা নাসের আগের কোনো সুরা পড়বে না। (হালবি কাবির, পৃ. ৪৯৪; ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ৩/৩২০)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজের সকল নিয়ম-কানুন সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী পালন করার তাওফিক দান করুন। নামাজের মতো মহান ইবাদতের ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন
Tuesday, April 18, 2023
ঋণ মুক্তির দোয়া কখন-কীভাবে পড়বেন? ঋণ পরিশোধের দোয়া
ঋণ মুক্তির দোয়া কখন-কীভাবে পড়বেন?
ঋণ মুক্তির দোয়া কখন-কীভাবে পড়বেন?
ঋণ পরিশোধ সম্পর্কে কত সুন্দর উপদেশ! নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম; যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।’ কেউ যেন ঋণ পরিশোধে গড়িমসি না করে সে জন্য নবিজী বলেছেন, ‘ঋণ পরিশোধ না করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু একান্তই যদি কেউ ঋণ পরিশোধে অপরাগ হয় তবে তার করণীয় কী? ঋণমুক্তিতে তিনি কখন কীভাবে আল্লাহর সাহায্য চাইবেন?
হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘একজন চুক্তিবদ্ধ গোলাম (ক্রীতদাস) তাঁর কাছে এসে বলে, আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে আমি অপরাগ হয়ে পড়েছি। আমাকে আপনি সহযোগিতা করুন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কি এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দেব না; যা আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর সীর (সাবীর) পর্বত পরিমাণ ঋণও থাকে তবে আল্লাহ তাআলা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন। তিনি বললেন, তুমি বল-
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তোমার হালালের মাধ্যমে আমাকে তোমার হারাম থেকে দূরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়া থেকেও আমাকে আত্মনির্ভরশীল (ঋণমুক্ত) করো।’ (তিরমিজি)
ঋণমুক্তির নিয়তে সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। ঋণমুক্ত হওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। তবেই মহান আল্লাহ ওই বান্দাকে ঋণ থেকে মুক্ত করবেন ইনশআল্লাহ।
শুধু তা-ই নয়, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় ভয়-চিন্তা-পেরেশানির পাশাপাশি ঋণ থেকে মুক্তি চাইতেন। তাই যারা ঋণগ্রস্ত; তাদের জন্য ঋণমুক্তিতে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া জরুরি। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অবতরণ করতেন, তখন প্রায়ই তাকে এই দোয়া পড়তে শুনতাম-
اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি ওয়াল আঝযি ওয়াল কাসালি ওয়াল বুখলি ওয়াল ঝুবনি ওয়া দালায়িদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির-রিঝালি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে আশ্রয় চাই; অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাই; কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে আশ্রয় চাই; ঋণভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার কাছে মুক্তি চাই।’ (বুখারি)
বিশেষ করে দ্বিতীয় দোয়াটি ঋণ পরিশোধের নিয়ত ও প্রচেষ্টার পাশাপাশি নামাজের দুই সেজদার মাঝে বসে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করা। বিশুদ্ধ নিয়তে আল্লাহর কাছে ঋণমুক্তির আশ্রয় কামনা করলে মহান আল্লাহ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের তা থেকে মুক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ঋণ পরিশোধে বিশুদ্ধ নিয়ত ও সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যা এবং প্রত্যেক নামাজের দুই সেজদার মাঝে উল্লেখিত দোয়াগুলো পড়া। আল্লাহর কাছে ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ার তাওফিক কামনা করা।
ঋণ পরিশোধের সময়ও দোয়া করা
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু রবিআ আল-মাখযুমি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুনাইন যুদ্ধের সময় তার কাছ থেকে তিরিশ অথবা চল্লিশ হাজার দিরহাম ঋণ নিয়েছিলেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তার পাওনা পরিশোধ করেন। এরপর নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে (দোয়া করে) বললেন-
بارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالأَدَاءُ
উচ্চারণ : ‘বারাকাল্লাহু লাকা ফি আহলিকা ওয়া মালিকা; ইন্নামা ঝাযাউস-সালাফিল হামদু ওয়াল-আদাউ।’
অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলা তোমাকে তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। নিশ্চয়ই ঋণের প্রতিদান হলো- তা পরিশোধ করা এবং প্রশংসা করা।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঋণ পরিশোধের তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। ঋণ পরিশোধ করার মাধ্যমে সবাইকে সর্বোত্তম আমলকারী হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
Saturday, September 25, 2021
কবিতার মাধ্যমে কুরআনের অবাক করা তথ্য। কুরআনের বৈজ্ঞানিক দিক। বলবো নাকি কুরআনের অবাক করা তথ্য?
বলবো নাকি কুরআনের অবাক করা তথ্য? যা শুনলে কাঁপবে হৃদয় জাগবে মনুষ্যত্ব!!
বলবো নাকি কুরআনের অবাক করা তথ্য?
যা শুনলে কাঁপবে হৃদয় জাগবে মনুষ্যত্ব!!
সবাই তবে কাজটি সেরে এই কবিতা পড়ো,
মুমিন হলে গা ঘামবে কাঁপবে হৃদয় থরো।
নাস্তিক তোমরা হা করে শোনো মহাগ্রন্থের বানী,
তুমি মানো না অবুঝ বলে আমরা সবাই জানি।
শোনো রে এবার নাস্তিকেরা মন দিয়োনা কোথাও,
অন্ধকারে কেন সত্য ঝোপের মধ্যে লুকাও?
এবার শোনো প্রথম কথা ঐশী গ্রন্থ কুরান,
কারণগুলো বলছি এবার মনের পর্দা সরান।
কে জানতো এই পৃথিবী বিগব্যাঙে হলো সৃষ্টি?
সুরা আম্বিয়ার ত্রিশ আয়াতটি কাড়ে না তোমার দৃষ্টি?
কে জানতো এই পৃথিবী চ্যাপ্টা নাকি গোল?
নাযিয়াতের ত্রিশ আয়াত পড়রে চোখ খোল।
কে জানতো মহাবিশ্ব সদা সম্প্রসারণশীল?
যারিয়াতের সাতচল্লিশ আয়াতটি জুড়িয়ে দিলো দিল।
কে জানতো চাঁদের আলো তার নিজস্ব নয়?
সুরা ফুরকানের একষট্টি আয়াত সেই কথা যে কয়।
কে জানতো দিবাকরও নিজ অক্ষে ঘুরে?
সুরা আম্বিয়া তেত্রিশ আয়াত পড়ে দেখো সুরে।
কে জানতো ফলের মাঝেও পুং-স্ত্রী থাকে?
সুরা রাদের তিন আয়াতটি এই ছবিটাই আঁকে।
কে জানতো মিষ্টি-লোনার অদৃশ্য অন্তরাল?
সুরা ফুরকানের তিপ্পান্ন আয়াত সাক্ষী চিরকাল।
কে জানতো বাষ্প হয়ে পানি উঠে আকাশে?
সুরা ত্বরিকের এগার আয়াতে এই তথ্যই ভাসে।
কে জানতো পাহাড়গুলো এই পৃথিবীর কীলক?
নাবা সুরার আট আয়াতে এই কথাটির ঝলক।
কে জানতো চামড়ার নিচে পেইন রিসেপ্টর আছে?
সুরা নিসার ছাপ্পান্ন আয়াতে এই কথাটিই আছে।
কে জানতো প্রত্যেক আঙ্গুলের ছাপ ভিন্ন ভিন্ন?
সুরা কিয়ামার তিন চার আয়াত এই তথ্যের জন্য।
কে জানতো মানব ভ্রুনের শ্রবণ ফোটে আগে?
তখন সাজদা সুরার নয় আয়াতটির কথা মনে জাগে।
কে জানতো এই পৃথিবী মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে আছে ঝুলে?
নামল সুরার পনের আয়াতটি বলছে খুলে খুলে।
ইতিহাসের কথায় এবার আসি বর্ণনায়,
ফেরাউনের নামটি সবাই পাবে যে সেথায়।
আল্লাহ বলেন, " ও ফেরাউন ! তোকে করবো সংরক্ষণ,"
তোকে এই পৃথিবীর কোন প্রাণী করবে নাকো ভক্ষণ।
সুরা ইউনুসের বিরানব্বই আয়াত সেই ঘোষনার প্রমাণ,
ও নাস্তিক ! এবার বলো এটা কি শুধু অনুমান?
এখনো সেই লাশটি আছে মিশর যাদুঘরে,
এখনো কি উদাস মনে থাকবে আধাঁর গোরে?
চৌদ্দশত বছর আগে সব বলেছে কোরান,
তাহলে আজ কেন বলো এই গ্রন্থ পুরান?
কোরান হল শিক্ষক আর বিজ্ঞান তার ছাত্র,
কোরান সবই সত্য বলে বিজ্ঞান অনুমান মাত্র।
যত বিজ্ঞান, যত সত্য কোরান মাঝে পাবে,
মহাসত্য না মেনে আজ কোথায় বলো যাবে?
এক আল্লার বাণী বলো মিথ্যা হতে পারে?
সত্য ন্যায়ের পথে যেটি ডাকে বারে বারে?
Tuesday, July 20, 2021
ঈদুল আজহা নামাজের নিয়ত ও নিয়ম বাংলায়
ঈদুল আজহা নামাজের নিয়ত ও নিয়ম বাংলায়
ঈদ মানে আনন্দ ৷ খুশি ৷ ইসলাম স্বভাবজাত ধর্ম ৷ মানুষের আনন্দ বেদনা সবই স্বাভাবিক নিয়মে হয় ৷ মনকে প্রফুল্ল রাখতে ও নির্মল বিনোদনের জন্য ইসলাম বছরে বড় দুটি উৎসবের সুযোগ দিয়েছে ৷ প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা । মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর দু’টি ঈদ উদযাপন করে। ঈদের খুশি প্রকাশ করে তারা সালাত আদায় ও কুরবানির মাধ্যমে ৷ ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বছরে দুই বার ঈদের নামাজ পড়ার কারণে অনেকেই নামাজ পড়ার নিয়ম ভুলে যান। আবার কেউ কেউ জানাযার সাথে গুলিয়ে ফেলেন ৷ তাই আপনাদের সুবিধার্থে ঈদের নামাজের নিয়ম তুলে ধরা হলো-
ঈদের নামাজ মূলত মাঠে, ঈদগাহে আদায় করা সুন্নাহ ৷ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করতেন। আমাদের সমাজে ঈদগাহ অপ্রতুল ৷ কোনো কোনো সময় ঈদের দিন বৃষ্টি হয় ৷ সবমিলিয়ে যদি খোলা স্থানের ব্যবস্থা না থাকে তবে মসজিদেও ঈদের নামাজ পড়া যাবে।
ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম
ঈদের নামাজ খোলা জায়গা, মসজিদ কিংবা বাসা-বাড়ি যেখানেই পড়া হোক না কেন, অবশ্যই তা জামাআতের সঙ্গে পড়তে হবে। জুমআ নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, ঈদের নামাজ আদায় করার জন্যও একই শর্ত প্রযোজ্য।
১ ৷ ওয়াকফকৃত জায়গায়
২ ৷ কমপক্ষে ৩ জনের জামায়াত
৩ ৷ খুতবা পাঠ ও শ্রবণ
৪ ৷ সূর্য উদিত হওয়ার পর দ্বিপ্রহরের আগে পড়া
সুতরাং জামাআত ছাড়া ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে না। বাসা-বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় করতে হলেও অবশ্যই জামাআতে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। আর একান্ত অপারগতা ছাড়া বাসায় ঈদের জামায়াত শুদ্ধ হবে না ৷ যদি কোনো সমস্যা থাকে, বা কোনো পরিস্থিতির কারণে তিনি যদি ঈদগাহে না যেতে পারেন, তাহলে বাসায় পড়তে পারবেন। কিন্তু এ ছাড়া ঈদের নামাজ বাসায় পড়ার বিধান নেই। ঈদের নামাজ বাড়িতে পড়ার বিষয় নয়। তাহলে তো আর ঈদের সালাতের কোনো মূল্যই থাকল না। ঈদগাহের প্রয়োজন হলো না। ঈদের সালাতেরও কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। তাহলে ঈদের মর্যাদাই তাহলে হারিয়ে যাবে। তবে, সমস্যার কারণে বাড়িতে পড়তে চাইলে তিনি পড়তে পারবেন।
ঈদের নামাজের নিয়ম
ঈদের নামাজের জন্য অন্যান্য ওয়াক্তিয়া নামাজের মতো কোনো আজান ও ইকামত নেই। তবে জুমআর নামাজের মতোই উচ্চ আওয়াজে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। দিনের বেলার সালাত হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য নামাজ থেকে ঈদের নামাজের পার্থক্য হলো অতিরিক্ত ৬টি তাকবির দিতে হবে।
• প্রথম রাকাআতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে অতিরিক্ত তিন তাকবির দিয়ে সুরা ফাতিহা পড়া।
• দ্বিতীয় রাকাআতে সুরা মিলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিয়ে রুকতে যাওয়া।
ঈদের নামাজের নিয়ত
আরবি নিয়তঃ
نويت ان اصلي لله تعالي ركعتي صلاة العيد الاضحى مع ستة تكبيرات واجب الله تعالى اقتديت بهذا الامام متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
ঈদুল আযহার নামাযের আরবি নিয়তের বাংলা উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা আলা রাকয়াতাই ছালাতি ঈদিল আযহা মাআ ছিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা আলা ইক্বতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ সহ
ঈদের দুই রাকাআত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি… আল্লাহু আকবার।
প্রথম রাকাআত
১. তাকবিরে তাহরিমা
ঈদের নামাজে নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধা।
২. ছানা পড়া
‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।
৩. অতিরক্তি ৩ তাকবির দেয়া।
এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেয়া এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নেয়া।
৪. আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া
৫. সুরা ফাতেহা পড়া
৬. সুরা মিলানো। অতপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাআত শেষ করা।
দ্বিতীয় রাকাআত
১. বিসমিল্লাহ পড়া
২. সুরা ফাতেহা পড়া
৩. সুরা মিলানো।
৪. সুরা মিলানোর পর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেয়া। প্রথম রাকাআতের মতো দুই তাকবিরে উভয় হাত কাধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেয়া অতপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে হাত বাঁধা।
৫. তারপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া।
৬. সেজদা আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।
ঈদের খুতবা শোনা
ঈদের নামাজে ইমাম কর্তৃক খুতবা পড়া সুন্নত এবং মুসুল্লিদের খুতবা শোনা ওয়াজিব। জুমার নামাজের ন্যায় প্রথমে বিষয় ভিত্তিক খুতবা এবং পরে সানি খুৎবা পাঠ করতে হয়। … সাধারণত খুতবার পরে দোয়া করা হয়।
ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দেবে আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবে। অবশ্য অনেকেই খুতবা না দেয়ার ব্যাপারে শিথিলতার কথা বলেছেন। খুতবা না দিলেও ঈদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে বলে মত দিয়েছেন।
ঈদুল আজহার দিনের বিশেষ সুন্নাত
ঈদুল আজহার বিশেষ সুন্নাত
ঈদের দিনের সুন্নত হলো-
১. খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা
২. গোসল করা
৩. মিস্ওয়াক করা
৪. সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন পোশাক পরিধান করা
৫. আতর ব্যবহার করা
৬. মহল্লার মসজিদে গিয়ে জামায়াতে ফজরের নামায আদায় করা
৭. ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া
৮. ঈদুল আযহার দিন সকালে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া
৯. ঈদুল আজহার দিন পবিত্র কুরবানীর গোশত দিয়ে খাওয়া শুরু করা
১০. ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা
১১. সকাল সকাল পবিত্র ঈদের নামায পড়ার জন্য যাওয়া
১২. ঈদের নামায ঈদগাহে গিয়ে পড়া, সম্ভব না হলে মহল্লার মসজিদে গিয়ে ঈদের নামায পড়া।
১৩. নিম্নোক্ত দোয়া পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া:
الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله والله اكبر الله اكبر ولله الحمد
উচ্চারণঃ
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ।
১৪. শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে খুশি প্রকাশ করা ইত্যাদি ঈদের সুন্নত।
Thursday, July 8, 2021
প্রতিদিনের কিছু সুন্নাহ যা অনুসরণ করা খুবই জরুরি
#আসুন_প্রতিদিন_কিছু_সুন্নাহ_অনুসরণ_করি।
১। ঘুম থেকে উঠে হাত দিয়ে মুখের ঘুমের
চিহ্ন মুছে ফেলা। (বুখারী ১৮৩)
২। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দোআ পড়া। (বুখারী ৬৩১২)
৩। মিসওয়াক করা। (বুখারী :২৪৫)
৪। ঘুম হতে উঠে নাকে ৩ বার পানি দেয়া।
(কারণ শয়তান রাতে নাকের ভেতর ঘুমিয়ে থাকে)
(মুসলিম ২৩৮)
৫। দু হাত কবজি পর্যন্ত ধোয়া।
(মুসলিম :২৭৮)
৬।বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা ও
দোআ পড়া। (বুখারী :৬৩২২)
৭। ডান পা দিয়ে টয়লেট হতে বের হওয়া ও দোআ পড়া। (আবু দাউদ ৩০)
৮। অজুর সুন্নাহগুলো পালন করা-
-বিসমিল্লাহ বলা
-ডান দিক হতে অজু শুরু করা
-কুলি করা
-নাকে ৩ বার পানি দেয়া
-২ হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়া
-প্রত্যেকবার অজুর আগে মিসওয়াক করা
-ঘন দাঁড়ি খিলাল করা
-মাথা মাসেহ করা
-দুহাত ও দুপায়ের আঙুলগুলো খিলাল করা
-অজু শেষে দোআ পড়া।
৯। প্রত্যেক ভালো কাজ ডান দিক হতে শুরু করা,যেমন-চুল আচড়ানো, জুতা
পড়া,পোষাক পড়া।
১০। খাওয়ার শুরু ও শেষে দোআ পড়া।
১১। বাড়ি থেকে বের হওয়া ও ঢোকার সময় দোআ পড়া।
১২। ডান পা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করা,
সালাম দেয়া।
১৩। বাম পা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া,
সালাম দেয়া।
১৪। খাওয়ার সময় পড়ে যাওয়া খাবার উঠিয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া।
১৫। প্লেট, আঙুল চেটে পরিষ্কার করে
খাওয়া।
১৬। বসে পানি পান করা।
১৭। ৩ ঢোকে পানি পান করা।
১৮। পানিতে নিঃশ্বাস না ফেলা।
১৯। পোশাক ডান দিক হতে পড়া।
২০। পোশাক বাম বাম দিক হতে খোলা।
২১। Hello, Hi, bye না বলে সালাম দেয়া।
২২। মুচকি হাঁসা।
২৩। ওপরে ওঠার সময় " আল্লাহু আকবার "বলা।
২৪। নিচে নামার সময় "সুবহান আল্লাহ্
"বলা।
২৫। চাশত, ইশরাক,তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়া।
২৬। সাক্ষাতের শুরু ও শেষে সালাম দেয়া, সাক্ষাত শেষে মুসাফাহ করা।
২৭। সাক্ষাতে ভালো কথা বলা, হাসিমুখে
কথা বলা।
২৮। সবসময় নেক কাজের নিয়াত করা।
২৯। চলে ফিরতে জিকির করা। (বাসে,
রিকশায়, শুয়ে বসে জিকির করা।)
৩০। দুশ্চিন্তার সময়," লা হাওলা ওয়ালা
কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ পড়া। "
৩১। কাজ শেষে " আলহামদুলিল্লাহ্ "বলা।
৩২। খারাপ অবস্থায় " ইন্নালিল্লাহি ওয়া
ইন্না ইলাইহি রাজিউন " বলা।
৩৩। হাঁচি দেয়ার পর, "আলহামদুলিল্লাহ্ "
বলা।
৩৪। হাই আসলে , " লা হাওলা ওয়ালা
কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্ " পড়া।
৩৫। দুঃখজনক অবস্থায়, " আলহামদুলিল্লাহ্ আলা কুল্লি হাল " বলা।
৩৬। সুন্দর কিছু দেখলে, " মাশা আল্লাহ্ "
বলা।
৩৭। আশ্চর্যজনক কিছু দেখলে,"সুবহান
আল্লাহ " বলা।
৩৮। ভুল কথা / কাজ হয়ে গেলে,"
আস্তাগফিরুল্লাহ্ " বলা।
৩৯। দুপুরে খাওয়ার পর একটু শুয়ে বিশ্রাম নেয়া।
৪০। খারাপ কিছু দেখলে, " নাউজুবিল্লাহ্ "বলা।
৪১। কেউ উপকার করলে, "জাযাকাল্লাহু খইর "বলা।
৪২। জাযাকাল্লাহু খইর এর উত্তরে, "
বারাকাল্লাহু ফি/ ওয়া ইয়্যাকা "বলা।
৪৩। ভবিষতে কিছু করতে চাইলে," ইনশা-আল্লাহ " বলা।
৪৪। কোনো অজানা বিষয়ে, "ওয়াল্লাহু আলম " বলা।
সারাদিন কাটুক অসংখ্য সুন্নাতে!!!
Subscribe to:
Comments (Atom)