Tuesday, October 22, 2019
যেসব আমলে জান্নাতে প্রাসাদ তৈরি হয়।
যেসব আমলে জান্নাতে প্রাসাদ তৈরি হয়
দুনিয়াতে এমন কিছু নেক আমল রয়েছে- যেগুলোর প্রতিপালনে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে অনিন্দ্যসুন্দর প্রাসাদ তৈরি করে দেন। প্রাসাদগুলো কুদরতি নেয়ামতে ভরা। এসব সৎকর্ম মোটেও আয়াসসাধ্য নয়, বরং সহজসাধ্য। একটু মনোযোগী হলেই তা সম্ভব। নির্মাণ শ্রমিকগণ জান্নাতে সৎকর্মশীলদের জন্য প্রাসাদ তৈরি করার কাজে মশগুল থাকেন। মাঝেমধ্যে তারা কাজ বন্ধ রাখেন। তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় কেন কাজ বন্ধ রেখেছ? তারা জবাব দেয় নিচে নেক আমল বন্ধ রয়েছে। নেক আমল শুরু হলে আমরা কাজে ধরব। তাই দুনিয়ার সময়গুলো হেলায়-ফেলায় নষ্ট না করে এসব আমলের মাধ্যমে জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণের জোগান দেওয়াই মুমিনের কর্তব্য। নিচে এমন কিছু আমল সম্পর্কে আলোকপাত করা হচ্ছে-
হাদিসে এসেছেÑ যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি বিধানের প্রত্যাশায় মসজিদ তৈরি করে দেন, ১০ বার সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করেন আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি, যে ২০ বার পড়বে তার জন্য ২টি এবং যে ৩০ বার পড়বে তার জন্য ৩টি রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করে দেবেন। এ কথা শুনে হজরত ওমর (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! জান্নাতে তো আমাদের অনেক প্রাসাদ থাকবে। মহানবী (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালার দয়া ও মেহেরবানি আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত। (বুখারি : ১/৫৫৪; মুসলিম : ২৪; দারেমি : ২/৪৫৯; সুয়ুতি, বুদুরুস সাফেরাহ : ১৮১৯)
দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। পরকালে নামাজিদের পুরস্কারে ভূষিত করবেন। আর কিছু নামাজ আছে যেগুলো মহানবী (সা.) নিয়মিত গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করতেন। ইসলামী পরিভাষায় এগুলো ‘সুন্নাতে মুয়াক্কাদা’ নামে অভিহিত। এসব নামাজ আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিলের মাধ্যম। আরও কিছু নামাজ আছে যেগুলো ফরজ নয়, সুন্নাতে মুয়াক্কাদাও নয়। পড়লে সওয়াব, না পড়লে গুনাহ নেই। এগুলোকে বলা হয় ‘নফল’। এ নামাজগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময়। মহানবী (সা.)-এর ভাষ্যমতে যে ব্যক্তি দিন-রাতে ১২ রাকাআত নামাজ আদায় করেন আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করে দেবেন। ফজরের নামাজ শেষে সূর্য কিছু দূর ওঠার পর যে নফল নামাজ আদায় করা হয় তা ‘সালাতুদ দোহা’ বা চাশতের নামাজ নামে পরিচিত। যে ব্যক্তি ১২ রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করবেন তাকে জান্নাতে স্বর্ণের তৈরি একটি প্রাসাদ দেওয়া হবে। মাগরিব ও এশার নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামাজের নাম ‘সালাতুল আওয়াবিন’। যে ব্যক্তি ১০ বা ২০ রাকাত আওয়াবিনের নামাজ আদায় করবেন তিনি জান্নাতে একটি প্রাসাদ প্রাপ্ত হবেন। (মুসনাদে আহমদ : ৬/৩২৭; নাসায়ি : ৩/২৬২; মুসতাদারাক : ১/৩১১; ইবনে খুজায়মা : ১১৮৮; তিরমিজি : ৪৭৩; ইবন মাজাহ : ১৩৭৩, ১৩৮০; কানযুল উম্মাল : ১৯৪২৬; ইবনে হিব্বান : ৪৪৬)
রমজানে রোজা পালন করা ফরজ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সিয়াম সাধকদের জীবনের সব পাপ মোচন করে দেবেন এবং পরকালে অফুরন্ত নেয়ামত দান করবেন। কিছু রোজা আছে নফল যেগুলো পালন করলে বিস্ময়কর ফলাফল মেলে।
যে ব্যক্তি রমজানে রোজা রাখেন, তার প্রতিটি সিজদায় ১৫শ নেকি আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয় এবং জান্নাতে রক্তিম নীলকান্তমণি বা সবুজ গোমেদ পাথর দিয়ে তৈরি একটি প্রাসাদ তার জন্য প্রস্তুত রাখা হবে। যে ব্যক্তি বুধ, বৃহস্পতিবার ও জুমার দিন রোজা রাখেন আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে এমন একটি প্রাসাদ হস্তান্তর করবেন, যা তার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত। (আল বুদুরুস সাফেরাহ : ১৮১৫, ১৮২৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/১৪৩; আত-তারগিব আত তারহিব : ২/১২৬)।
আরও নেক আমল আছে যেগুলো পালন করলে জান্নাতে রাজপ্রাসাদ পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে। যে ব্যক্তি নফল রোজা রাখেন, জানাজায় শরিক হন, অসুস্থ মানুষকে দেখতে যান, মিসকিনদের অন্ন জোগান, ফরজ নামাজের কাতার সোজা রাখেন এবং কাতারের শূন্যস্থান পূরণ করে নেন, মিথ্যা ছেড়ে দেন, ঝগড়া বিবাদ পরিহার করেন, উত্তম চরিত্র গ্রহণ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে অথবা জুমার দিন সুরা দোখান তেলাওয়াত করেন; এসব আমলের বিনিময়ে জান্নাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি প্রাসাদ তাকে দেওয়া হবে। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৩/১৬৩; ইবনে মাজাহ : ৯৯৫; আল বুদুরুস সাফেরাহ : ১৮১৭, ১৮২৬)
মহানবী (সা.) বলেন, যারা ঈমান আনবেন, মুসলমান হবেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করবেন তাদের জন্য জান্নাতের নিম্নস্তরে একটি, মধ্যস্তরে একটি এবং উচ্চস্তরে একটি প্রাসাদ তৈরি করা হবে। আমি মুহাম্মদ (সা.) তার জিম্মাদারী নিলাম (সুনান নাসায়ি : ৬/২১; তাবারানি : ১৮/৩১১)। হাটবাজার ও শপিংমলে প্রবেশ করে নিম্নোক্ত দোয়া পড়েন আল্লাহ তায়ালা তার আমালনামায় এক লাখ নেকি লিপিবদ্ধ করেন, এক লাখ পাপ মার্জনা করেন এবং জান্নাতে রাজপ্রাসাদ তৈরি হয়ে যায়। দোয়াটি হচ্ছেÑ আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদ, ইউহয়ি ওয়া ইউমিত, ওয়া হুয়া হাইউন লা ইয়ামুত বিয়াদিহিল খায়ের, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’
(তিরমিজি : ৩৪২৫; ইবনে মাজাহ : ২২৩৫)
ঈমানদার কোনো ব্যক্তির সন্তান যখন মারা যায়, ফেশেতাদের ডেকে আল্লাহ তায়ালা জানতে চান, আমার বান্দারা কী বলেছে? ফেরেশতাগণ জবাব দেবেন, তারা মন্দ কিছু বলেনি বরং আপনার প্রশংসা করেছে এবং ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের হুকুম দেন তাদের জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করো এবং তার নাম দাও ‘বায়তুল হামদ’। মৃতব্যক্তির জন্য যারা কবর খনন করেন তারাও প্রাসাদ পাবেন। (আবু দাউদ তায়ালাসি : ৫০৮; কানযুল উম্মাল : ৪৩৫৭০)
Saturday, October 19, 2019
মানুষ মৃত্যূর পর করণীয়। ব্যক্তির প্রতি সমাজের দায়িত্ব
মৃত ব্যক্তির প্রতি সমাজের দায়িত্ব
মৃত ব্যক্তির প্রতি সমাজের দায়িত্ব
মানুষ মাত্রই মরণশীল, কেউ চিরকাল বেঁচে থাকে না এবং মৃত্যু নির্ধারিত। কে কোথায় মারা যাবে আগেভাগে জানার সুযোগ নেই। যিনি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যাচ্ছেন তার প্রতি সমাজের সদস্যদের দায়িত্ব ও করণীয় রয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য বা অবহেলা প্রদর্শন করা পাপ ও অপরাধ।
কোনো ব্যক্তি মারা গেলে চোখ বন্ধ করে দেওয়া এবং চাদর দিয়ে পুরো দেহ ঢেকে দেওয়া ইসলামের বিধান। আপনজনের বিচ্ছেদে ব্যথাতুর হওয়া এবং কান্না করার অনুমতি আছে। তবে চিৎকার, গড়াগড়ি ও পোশাক-পরিচ্ছদ ছিঁড়ে ফেলা অনুমোদিত নয়।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তদীয় শিশুপুত্র ইবরাহিমের মৃত্যুতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘হে ইবরাহিম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা শোকাতুর। ’ বুখারি। মৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব গোসল, কাফন পরানো, কবর খনন ও দাফনের ব্যবস্থা করা সওয়াবের কাজ। এটা ব্যষ্টিক ও সমষ্টিক দায়িত্ব। শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে গোসল করালে গোসল প্রদানকারীদের জীবনের সব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।
গোসল করানোর সময় শারীরিক কোনো ত্রুটি দেখা গেলে গোসল প্রদানকারীরা যদি তা গোপন করে রাখেন, আল্লাহ তাদের জীবনের পাপ ৪০ বার মাফ করে দেবেন। কাফনের কাপড় কেউ সরবরাহ করলে বিনিময়ে তাকে জান্নাতে সবুজ বর্ণের রেশমি কাপড় প্রদান করা হবে। যারা কবর খনন করে দেন, তাদের জন্য জান্নাতে প্রাসাদ তৈরি করে দেওয়া হবে। মৃত ব্যক্তিকে গালি দেওয়া ও তার দোষচর্চা ও সমালোচনা করা নিষেধ। তার সদ্গুণাবলি স্মরণ করার নির্দেশনা রয়েছে
রিয়াদুস সালেহীন। মৃত ব্যক্তির জানাজার মিছিলে যুক্ত হওয়া, জানাজার নামাজ আদায় করা ও দাফনে শরিক হওয়া বিরাট পুণ্যের কাজ। জানাজা নামাজে অধিক মানুষের উপস্থিতি শুভলক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে এমন ৪০ ব্যক্তি যদি থাকেন যারা শিরক করেননি, তারা যদি মাগফিরাতের দোয়া করেন, আল্লাহ মৃত ব্যক্তির পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। মুসলিম। সওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে কোনো ব্যক্তি যদি জানাজার শোভাযাত্রায় শরিক হয়, জানাজার নামাজ আদায় করে, দাফন শেষ হওয়া অবধি কবরস্থানে অবস্থান করে তাহলে দুই ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব প্রদান করা হয়। আর যদি দাফনের আগে কেবল জানাজার নামাজ আদায় করে ফিরে আসে, এক ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব মিলবে। ওহুদ পর্বতমালার সমান পরিমাপকে ‘কিরাত’ বলা হয়। রিয়াদুস সালেহীন।
যে ব্যক্তি মারা গেল তার যদি কোনো ঋণ থাকে তা আদায়ের ব্যবস্থা করা ওয়ারিশদের জন্য জরুরি। ঋণ পরের হক। আল্লাহ পরের হক মাফ করেন না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় ঋণগ্রস্ত এক ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। হজরত আলী (রা.) নিজের তহবিল থেকে আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে ইমামতি করেন। কর্জ আদায় না হওয়া পর্যন্ত জান্নাত বা জাহান্নামে যাওয়ার ফয়সালা স্থগিত রাখা হয়। তিরমিজি। দাফন করার পর তাড়াহুড়া করে ঘরে ফিরে না এসে কবরস্থানে অবস্থান করে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া-দরুদ ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকা এবং মাগফিরাত কামনা করা শরিয়তের হুকুম। হজরত আমর ইবন আস (রা.) বলেন, ‘আমাকে দাফন করার পর তোমরা কবরের পাশে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে মাগফিরাত কামনা করবে যতক্ষণ একটি উট জবাই করে বণ্টন করতে সময় লাগে। ’ মুসলিম।
Saturday, October 12, 2019
প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার ১১টি অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা
প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার ১১টি অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা
নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। কিন্তু অনেকেই জানেন না নামাজ সাস্থের জন্য অনেক উপকারী।
নামাজ পড়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের বেশকিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয় যা এক প্রকার ব্যায়াম। এই ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। চলুন জেনে নেই নামাজ পড়ার ১১টি স্বাস্থ্য গত উপকারিতা সম্পর্কে:
১। নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি অনেকবৃদ্ধি পায়। ২। নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জায়নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
৩। নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।
৪। নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন পরিবর্তন আসে।
৫। নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।
৬। নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।
৭। নামাজে ওজুর সময় মুখমন্ডল ৩ বার ধৌত করার ফল আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।
৮। ওজুর সময় মুখমন্ডল যেভাবে পরিস্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয় ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়।
৯। কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।
১০। নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
১১। কেবল মাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয়। ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায় কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে।
নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। কিন্তু অনেকেই জানেন না নামাজ সাস্থের জন্য অনেক উপকারী।
নামাজ পড়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের বেশকিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয় যা এক প্রকার ব্যায়াম। এই ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। চলুন জেনে নেই নামাজ পড়ার ১১টি স্বাস্থ্য গত উপকারিতা সম্পর্কে:
১। নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি অনেকবৃদ্ধি পায়। ২। নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জায়নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
৩। নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।
৪। নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন পরিবর্তন আসে।
৫। নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।
৬। নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।
৭। নামাজে ওজুর সময় মুখমন্ডল ৩ বার ধৌত করার ফল আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।
৮। ওজুর সময় মুখমন্ডল যেভাবে পরিস্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয় ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়।
৯। কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।
১০। নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
১১। কেবল মাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয়। ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায় কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে।
Subscribe to:
Comments (Atom)